admin

anischoudhury.com

Featured Image

আনিস চৌধুরী – হয়ে ওঠার লেখাজোখা

আমার মা যতটা গোছানো ছিলেন, বাবা ততটাই ছিলেন বেখেয়াল। বাবা কখনো আলো পছন্দ করতেন না, মা চাইতেন বাড়ির সব জানালা খোলা, সব পর্দা গোটানো, ঘর ফর্সা থাকবে। রাতে আবার মা চাইতেন হালকা আলো, আর অন্ধকার বাবার মোটেই পছন্দ ছিল না। আলো ঢোকা না ঢোকা নিয়ে প্রায়ই মৃদু তর্ক হতো। বাবার হাতের লেখা ভারী মোটা। খোলা,

Featured Image

জাল

এখানে সব কিছুই কেমন দ্ধিধাগ্রস্ত। আলোয় হঠাৎ ঝলমল করে ওঠে না কোন সকালবেলা। যখন কুয়াশা কেটে যায়, বট বা শালগাছের কোন উচুঁ ডাল ছুয়ে যায় আলো, তখনই একটি দিনের সুচনা। দুপুর গড়িয়ে যাবার আগেই বিকেলের হাতছানি। তারপর মুষলধারে অন্ধকার।জায়গাটা ঠিক বনেদি শহুরে এল কার নয়, অজপাড়াগাঁও নয়। বরং বলা যায় শহরতলীর কমচেনা রাস্তার ধারে কাছে।

রজনী

চরিত্রলিপি মাহবুব   পত্রিকা সম্পাদক সিরাজ   যুগ্ম সম্পাদক মোবারক বার্তা সম্পাদক শহীদ    শিফ্ট-ইন-চার্জ কবির    রিপোর্টার শওকৎ  সাব এডিটর হেমায়েত         ,, মাহমুদ  ,, রব       ,, নাজির   শিক্ষানবিশী সাব এডিটর মাসুর    বোর্ড অফ ডাইরেক্টরসের চেয়ারম্যান ইফতেখার        বোর্ডের সদস্য একরাম  ,, জব্বার   ফোরম্যান হানিফ   ,, হাবিব    সার্কুলেশন ম্যানেজার কুদ্দুস    সাক্ষাৎপ্রার্থী প্রথম ছাত্র         সাক্ষাৎপ্রার্থী দ্বিতীয় ছাত্র        ,, আহমদ  পিয়ন সিদ্দিক

বলাকা অনেক দূরে

সাগর-তীরবর্তী ট্যুরিস্ট কেন্দ্র নিশাপুরের হোটেল প্যারাডাইস। অর্ধবৃত্তাকার কাউন্টার। কাউন্টারের একধারে টেলিভিশন। সম্ভব হলে অ্যাকাউন্টিং মেশিনও থাকতে পারে। বড়মতো লেজার, হোটেলে আগত ব্যক্তিদের নাম লেখার জন্য। তাছাড়া নানা সাইজের কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ড। কোনোটা সিগ্রেটের, কোনোটা বিমান কোম্পানির, কোনোটা ট্র্যাভেল এজেন্টদের বিজ্ঞাপন। কোনোটায় আবার হোটেল প্যারাডাইসের বার বা রেস্তোরাঁর প্রচার। যেমন ‘ট্রাই আওয়ার ব্লু রুম ফর ডিনার’ জাতীয়।

তারা ঝরার দিন

সকাল বেলা। মামুলি সাজানো ঘর। মঞ্চের পেছনে বাঁ-ধার ঘেঁষে পর্দা আটা দরজা। একধারে জানালা। পর্দা টানা। দরজার পাশেই পাতা বিছানা। বিছানার তলায় জুতো, স্যান্ডেল। বিছানার মাথার দিকে টেবিল। তাতে নানা ধরনের জিনিস যেমন বইপত্র, আয়না, ক্রিমের কৌটো, তেলের শিশি, আয়না, প্রসাধন সামগ্রী, ফ্লাক্স, গ্লাস এবং শেড দেওয়া টেবিল ল্যাম্প। জিনিসপত্র ইতস্তত ছড়ানো। দেয়ালে, প্রায় মাঝামাঝি

নীল কমল

সকাল বেলা। প্রাতরাশের আয়োজন। দোতলার সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে যে লাউঞ্জ সেখানেই লম্বা টেবিল পাতা। ছ’জনের বসার ব্যবস্থা। টেবিলের সিঁড়ির কাছের মাথায় বসবে গৃহকর্তা জাফর করিম। বয়েস পঁয়তাল্লিশ-ঊর্ধ্ব। আসনটি বর্তমানে খালি। লম্বালম্বিভাবে স্বামীর আসনের বাঁ-দিকের আসনটি স্ত্রী রোকেয়া করিমের। ত্রিশোর্ধ্ব। অন্যান্য আসনে বাড়ির অন্যেরা। দৃশ্যের গোড়ায় দেখা যাবে, কেবল স্ত্রী রোকেয়া উপবিষ্ট। টেবিলে প্রাতরাশের বিভিন্ন উপকরণ ও

তবু অনন্য

রচনা : আনিস চৌধুরী প্রযোজনা : সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন (সম্পূর্ণ টিভি নাটক) মাঝারি আকারের কামরা। যেখানে বসা এবং খাবার ব্যবস্থা দুইই। খাবার টেবিল ছোট। চারজনের বসার উপযুক্ত। বসার অংশে হাতল দেওয়া দুটি সোফা সেটের আকারের চেয়ার। সে-সঙ্গে বেতের সেটের আরো একটি কী দুটি চেয়ার। ছোটমতো টেবিল মাঝখানে। বোঝা যাবে যথাসম্ভব ড্রয়িংরুমের আদল কোনোমতে টিকিয়ে রাখা।

চেহারা

এ নাটকের অন্যতম মুখ্য চরিত্র বেবী নামের মেয়েদের যে যেখানেই থাকুক। নাটকটি প্রথম টেলিভিশনে অভিনীত হয়। মঞ্চোপযোগী করার কারণে স্থানবিশেষে সামান্য পরিবর্তন করতে হয়েছে। দ্রষ্টব্য : ভুলবশত পরবর্তী পর্যায়ে চরিত্রলিপিতে কোয়েলের উল্লেখ নেই। কোয়েল চান্দু শেখের আশ্রিতা। বয়সে যুবতী। অনুরূপভাবে ড্রাইভার চরিত্রটিও ওই তালিকায় সংযোজিত হবে। ‘অন্যান্য ভূমিকায়’ যাদের নাম দেখানো হয়েছে তাদের অধিকাংশই চতুর্থ

যেখানে সূর্য

চরিত্রলিপি মোবারক          গৃহস্বামী নাসিম বানু        গৃহকর্ত্রী কবীর    মোবারকের ভাগ্নে, বেকার যুবক রুবী      মোবারকের বড় মেয়ে রীনা     মোবারকের ছোট মেয়ে মতিন   মোবারকের ছেলে কাসেম  প্রতিবেশী, শিকারি আবদুল  কাসেমের ড্রাইভার প্রথম দৃশ্য একতলা বাড়ির বারান্দা। কিছু বেতের চেয়ার এবং মোড়া রাখা। এক ধারে লম্বা সাজানো ফুলের টব। কিছু টব আবার বারান্দার ছাদের সঙ্গে ঝোলানো। সেগুলোতে মানি-প্ল্যান্টের

যখন সুরভী

মূল – আনিস চৌধুরী  বেতার নাট্যরূপ – সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন প্রযোজনা : মাসুদুল হাসান কেয়া    :         আমি কি সেই কেয়া? এক যুগ আগের উচ্ছলা কেয়া, যে কেয়া একদিন কথায় কথায় হাসির ফোয়ারা তুলত, মিষ্টি কলতানে বাড়ি মুখর করে রাখত। প্রজাপতির ডানার মতো ভ্রুকুটি কাঁপিয়ে আবেগে উৎসারিত হতো সেই কেয়া আজ কোথায়? কোন অজানা অন্ধকারে হারিয়ে

ছায়া-হরিণ

(১৯৬৮) ভরা দুপুর। শহরের অন্তত এ রাস্তায় লোকচলাচল বিরল। দু-একটা গাড়ি দ্রুত বেরিয়ে যায়। কখনো-বা একখানা স্কুটার। রাস্তার ধারঘেঁষে ছোটমতো বাড়ি। সামনে পাকা মেঝের বারান্দা। সিঁড়ির দিক খোলা, তা নইলে নিচু রেলিংয়ে ঘেরা। সিঁড়ি দিয়ে নাবতেই সবুজ লন। এলোপাতাড়ি কিছু ফুলগাছ ও পাতাবাহার লাগানো তাতে। বাড়ির বাঁ-ধারে কলতলা। কলতলার জন্যে বাঁধানো জায়গার একখানে গ্রিলের জালি

প্রত্যাশা

চরিত্রলিপি : আলিম   যুবক     (বাইশ থেকে পঁচিশ) কবীর    যুবক     (তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ) শওকত যুবক    (আলিমের সমবয়স্ক) রোকেয়া                    আলিমের স্ত্রী রানু                আলিমের ছেলে কুমকুম            আলিমের মেয়ে ভদ্রমহিলা                  যুবতী (১) তৃতীয় ও চতুর্থ দৃশ্যে আলিম ও কবীরকে আরো বছর বারো বেশি বড় মনে হবে (২) দ্বিতীয় দৃশ্যের পর আরো কয়েক বছর

এ্যালবাম

আনিস চৌধুরী বাংলা একাডেমী : ঢাকা প্রথম অভিনয় রজনী ১৫ই নভেম্বর, ১৯৫৭ কাটরাক্ হল, করাচি ইস্ট বেঙ্গল কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে মঞ্চস্থ চরিত্র                           ভূমিকায় ইনাম                           কামাল হায়দর কাইউম                        রফিকুল ইসলাম কলিম                          জামান আলী খান মুস্তাফা                         বাদল সরকার মকবুল                         রুমী লিলি                            রিজিয়া সুলতানা রুবী                            রানী সরকার নাসিম বানু                      রেখা আনোয়ার                      বদর চৌধুরী মীনু                            আনার রতন                          

মানচিত্র

প্রথম অভিনয় রজনী ৮ এপ্রিল, ১৯৫৬কাটরাক্ হল, করাচি ইস্ট বেঙ্গল কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে মঞ্চস্থনাটকে অভিনয় করেন :মজিদ স্কুলশিক্ষক মজিবুর রহমান খানকলিম স্কুলশিক্ষক এ. বি. এ. লতিফমনসুর হেডমাস্টার আফতাবুদ্দিন আহমদইয়াকুব জমিদার জাফর করিমনায়েব আতোয়ার হোসেন খানআমিন মজিদের ছেলে রফিকুল ইসলামকামাল মজিদের ভাগ্নে নজিবুল হকলালু মজিদের চাকর মোতাহার আহমদমমিন ইয়াকুবের চাকর আবুল হোসেনআবদুল্লাহ দর্জি কাজী আবদুল হামিদকরিম

Featured Image

আনিস চৌধুরী : তাঁর উপন্যাস ও তিনি

সৈয়দ শামসুল হকআনিস চৌধুরীর সঙ্গে আমার শেষ দেখা তাঁর মৃত্যুর মাত্রই দু’দিন আগে। আমাদের এক আড্ডার জায়গায় সেদিন আমি একা বসে আছি। দুপুর দুটো হয়ে গেছে। দেখলাম আনিস চৌধুরী দরোজা ঠেলে ঢুকছেন। নিশ্চয় কোথাও থেকে তেতেপুড়ে ভরদুপুরে ফিরছেন। উঠে গিয়ে তাঁকে আমার টেবিলে ডেকে আনলাম। আমার দিকে চকিতে একবার তাকিয়ে বসে পড়লেন তিনি। তাঁর স্বভাব,

Featured Image

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

বল না মেজাজ কার না খারাপ হয়, আমার, তোমার? ওটাত বাতির সুইচ নয় যে টুপ করে বন্ধ করে দিলে। পানির কলও নয়। এমনি মেজাজ খারাপের পালা যখন চলে, ভাল লাগে না কিচ্ছু। প্লেটে মিষ্টি সন্দেশ দিলেও সন্দেহ হয় ওটা বুঝি কুইনিনের তৈলি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনে হয়, সেই সকাল থেকে ওঠা বক্ বক্ করে মাথা

Featured Image

ছবি-বিভ্রাট

এতক্ষণ প্ল্যাটফর্মে এক সঙ্গেই ছিল মনি। রাতের ট্রেন। অসম্ভব ঠ্যালাঠেলি আর ভিড়। একেবারে চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয়নি। পেয়ারা কেনার লোভে ফেরিওয়ালার পেছন পেছন গিয়েছিল। সে আর নতুন কি! বরাবরই মুনি একটু হুজগে ছেলে। এটা সেটা দেখলেই কেনার বাতিক। তা হক। সবাই জানে কাজের সময় সে ঠিক ঠিক হাজির। মনি যে কাঁটায় কাঁটায় ট্রেনের কামরায়

ঐ রকম একজন

জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে দেখল কামাল মাটি দেখা যাচ্ছে। একটানা ছ’ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট চলার পর খানিকক্ষণের মধ্যেই জাম্বো বিমান রানওয়ে স্পর্শ করবে। দেশে ফেরার বাসনা তাহলে সত্যি সফল হলো সাড়ে পাঁচ বছর পর। যেমন ধাপে ধাপে উচ্চতা কমল, আকাশের গা থেকে তেমনি ক্রমশ ভূপৃষ্ঠের দিকে নেমে আসছে তারা। জানালা ছুঁয়ে যায় খ- মেঘ। খোলা থাকলে

লোকজন

রিপোর্ট খাতা সঙ্গে নিয়ে প্রায় আদ্ধেক পথ চলে এসেছে। এখন আবার ডাক্তারের চেম্বারে ফিরে যাবার মানে হয় না। নতুন কিছু জিজ্ঞেস করার নেই। তেমন মনে করলে তখুনিই বলতে পারত। অকাট্য যুক্তি। কিন্তু সবসময় যুক্তির শাসন চলে না। ফিরতি যাত্রায় কিছু না হোক খানিকটা সান্ত¡না মিলতে পারে। যেটার এ মুহূর্তে সে বড় কাঙ্গাল। ভরসার কথা নাইবা

মধুগড়

এক হুশ্ হুশ্ করে স্টেশনের বড় ছাউনির ভিতর ঢুকে পড়ে মেল ট্রেন। রাতজাগা ক্লান্ত-চোখে হেডলাইট জ্বলছে। ধুলোয় আর নভেম্বর-সকালের সলজ্জ কুয়াশার সেটা হারিকেনের ধীমে শলতের মতো। আকাশে রং-এর আভা। লাল গোলাপির মাখামাখি। কখন হুড়োহুড়ি সরে এক ঝাঁক পায়রা উড়ে যায় স্টেশনের ছাউনি থেকে। ট্রেনের আতঙ্কে, না আলোর নেশায় বোঝা যায় না। শেষবারের মতো সিটি বাজিয়ে

সৌরভ 

সেই মেহগিনি দরজা ঠেলে ভেতরে আসতেই এক প্রলুব্ধকর আমন্ত্রণ কথা বলে ওঠে, আসুন। দরজার হাল্কা পীতাভ পর্দা কেঁপে ওঠে। বাইরে তখন কোনো ফাল্গুন সন্ধের উদ্দাম হাওয়া। খোলা দরজায় তার দুরন্তপনাই এবার এলোমেলো পর্দার আড়ালে সরীসৃপের মতো জড়িয়ে ধরে কাকে। আড়াল করে রাখে। এবার দরজাটা ভেজিয়ে দেয় জাহেদী। আমন্ত্রণকারিণীর মুখোমুখি দাঁড়ায় এসে। আশ্চর্য নিটোল, ঢলঢলে একখানা

স্রোত

একটু একটু করে কুয়াশার ঘোর কাটছে। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না এতক্ষণ। কাচের জানালার ওপর শিশির ঝরেছে সারারাত টুকরো টুকরো অভিমানের মতো। জানালা খুলে দিয়েও স্বস্তি নেই। কন্কনে হাওয়ার দৌরাত্ম। বোধহয় বাইরে টিপ্ টিপ্ বৃষ্টি। টেবিলের টাইমপিসখানা তখন থেকে বাজে বকছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সেটা যেন রীতিমতো ক্লান্ত।  সেই সকাল থেকে সোয়েটার চাপিয়ে গলায়

চোখের রঙ

সিঙ্গাপুর থেকে চিঠি এসেছে বড় ভাই মাসুদের। দেশে থেকে যখন সুবিধে হলো না, চলে আসুক এখানে। আর কিছু না জুটলে দোকান দেখাশোনা করতে পারে মাশুক। খেয়েপরেও দু’পয়সা হাতে থাকবে। চাকরির মোহ ততটা নয়, যত ওই নাম এবং দূরত্বের। স্বপ্নালু দূরপ্রাচ্য। এলাচি-দারুচিনি রাবার বন আর ইউক্যালিপটাসের প্রলোভন যেখানে হাতছানি দেয়। পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, চীনা, ইংরেজ দুনিয়ার সব

সরোবর

এক ছায়াঘন পাম রোডের এক প্রান্তে দেখা হলো তার সঙ্গে। প্রথমে চিনতে পারিনি। না চেনবারই কথা। সেই কবে দেখেছিলাম। তখন তার বয়েসই কত। সেদিনের চেহারার সঙ্গে আজ কোনো মিল নেই। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত একটি মূর্তি স্মৃতির জাদুঘর থেকে উঠে এসেছে। ধোঁয়াটে চশমার আড়ালে তার অসহায় চোখ জোড়া খুঁটে খুঁটে দেখছে আমাকে। তারপর একসময় দৃষ্টি স্থির হলো

শখের পুতুল

বাস থেকে নেবে রিকশা, তারপর খানিকদূর পায়ে হাঁটা। তাড়াহুড়া কামালের। সময়ের সাথে যুদ্ধে জয়ী না হলে চলবে না। হাতে অনেক কাজ। পেড্রো ডি সুজা রোড পর্যন্ত গিয়েছিল বাসে। তারপর বাস নেই, কাঁচা রাস্তা। খানিকটা রিকশায় গিয়ে বাকিটা হাঁটতে হলো। আকাশ মেঘলা। কখন বৃষ্টি শুরু হবে ঠিক নেই। ঠান্ডা কন্কনে হাওয়ায় তারই আভাস। পাঁচটায় আসতে বলেছেন

উত্তাপ 

যেটা মনে হয়েছিল এক খ- কালো মেঘ দুপুর না গড়াতেই তা ঢেকে ফেলল সমস্ত আকাশ। চকচকে উজ্জ্বল দিনের গায়ে পা-ুর ক্লান্তি নিয়ে নাবল কপিল বর্ণের সন্ধ্যা। তার পরই এলো বৃষ্টি – অঝোরে গাছপালা কাঁপিয়ে, সহস্র বিদ্যুৎ রেখার আকাশের মানচিত্র বর্ণায়িত করে। ছন্দহীন অবারিত বৃষ্টি প্রথমে মেটাল দগ্ধক্লিষ্ট মাটির ক্ষুধা। কার কল্যাণ স্পর্শের মতো স্বচ্ছ শুভ্র

প্রশ্ন জাগে

নাসিম বানুর হাতে তৈজসপত্র ভাঙ্গেনি একটাও, এটা সাতচল্লিশ বছর চার মাস সতেরো দিনের একটা চক্রবৃদ্ধি অহমিকা। জীবনটাকে তিনি ভেঙ্গেছেন খান খান করে কৈশোরে যৌবনে আর বয়োবৃদ্ধির বর্তমান সোপানে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের শেষকৃত্য হবার অপেক্ষমাণ ফাইলগুলোকেও লজ্জায় হার মানাতে পারতো নাসিম বানুর ডাইরি যা কিনা ছিল ছোট, বড়, মাঝারি, লাল, নীল, সবুজ, হলদে, মেরুন রঙের। ধূসর হয়ে